খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

নিউজ এইট

তাই বেশি জোর ফলাতে চাইলাম না

অনলাইন ডেস্ক ।।
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
তাই বেশি জোর ফলাতে চাইলাম না

আমি খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রিয়া। আজ আমার অষ্টম মঙ্গলা। মনটা আমার বেশ খুশি খুশি এটা কখনোই বলতে পারবো না। না, আপনারা যা ভাবছেন ভুল। আপনারা বলবেন বিয়েটা তো আমি নিজেই নিজের ইচ্ছেয় করেছি তাহলে আপত্তিটা কোথায়?

যেটুক খুশি আমায় দেখছেন সেটা আমি বাপের বাড়ি যাচ্ছি বলে শুধু মনটা খুশি। কিন্তু আগামী পরশু আমি আর আমার বর বাবাজীবন যাচ্ছি প্রথমবার একসাথে ঘুরতে থুড়ি মধুচন্দ্রিমা যাপনে। তাই এতো চিন্তা। আসলে অভি আমার ফোনে কথা বলছে না ঠিক মতো সেই বিয়ে দিন থেকে। অথচ ওর কথা বিয়েটা আমি করলাম।

ও হ্যাঁ ভুলেই গেছি, আপনাদের সাথে তো আমার বরের এখনো পরিচয় করাইনি। আমার বর বুবাই দা। আমাদের পরিচয় প্রায় সাত বছর হতে চলল। সেই যখন ক্লাস নাইন আমি যাচ্ছিলাম ঝড়ের বেগে সাইকেল চালিয়ে টিউশন পড়তে। তখন আমি সাইকেল চালানোতে ছেলেদেরও হার মানাই। তো সেই ঝড়ের বেগের সাইকেল এ ধাক্কা লাগলো এক শান্ত সৌম্য নিরীহ ছেলের। সেই ছেলেটিই এই আমার পতিদেব মিস্টার মানব মন্ডল। বিদেশে চাকরি করে কিছু পয়সা-করি করে আজ আমাকে বিয়ে করে জীবনে সবচেয়ে বড় কিছু পাওয়া হয়ে গেছে বলে দাবি করছে।

আজকাল বুবাই হাসতে হাসতে বলে “ধাক্কাটা সেদিন শরীরে লেগেছিল না হৃদয়ে কে জানে”। যাক গে ওর কথা বাদ দিন। তো সেই ঘটনার পর অনেক ওঠানামা আর ভুল বোঝাবুঝি ঠিক বোঝাবুঝির পর আজ আমাদের অষ্টম মঙ্গলা। সে গল্প না হয় আর এক দিন করব। ফিরে আসি আজকের দিনে। আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল যে আমি অভি সাথে হানিমুন যাবো পাহাড়ে। আমার এই ‘আপাত শান্ত মনের দুরন্ত’ বর কে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো।

কিন্তু অভি ফোন ধরছে না কেন? ও বলেছিলো দার্জিলিং যে হোটেলটা ও বুকিং করেছে সেটা ওর বিশেষ জানাশোনা। বুবাই এর গল্পটি ওখানে শেষ করে আমি ওর সম্পত্তিতে রাজ করবো। আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু এখন মনটা মানছে না। একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেবো, লোকটা তো আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে।

যাক বাঁচা গেলো আজ আমার জন্মদিন। সারপ্রাইজ হিসেবে একটা দলিল উপহার দিয়েছেন বুবাই আমাকে। লাটাগুড়িতে একটা কটেজ কিনেছেন উনি আমার জন্য হানিমুনে যাবো আমরা ওখানেই। সারাদিন বেশ ভালো কাটলো কিন্তু মন খারাপ হলো বিকাল বেলায়।

আমার আর উনার মামাতো বোন অয়ন্তিকার জন্মদিন এক দিনে বিকালে একটা সারপ্রাইজ পার্টি আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই আমার জন্য ছিলো আরো একটা সারপ্রাইজ। অভি আর অয়ন্তিকার এঙ্গেজমেন্ট। অথচ আমাদের বিয়েতেই ওদের আলাপ। শিল্পপতির মেয়ে বলে বোধহয় অতো তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অভি।

বাড়ি ফিরে মনটা কিছুতেই ভালো করতে পারলাম না। শুয়ে পরলাম। উনি বললেন “তোমার মোবাইলটা দেবে একটু একটা গেমস খেলবো। দিয়ে দিলাম।” কি ধরণের মানুষ এই লোকটি কে জানে! কি ধাতুর তৈরি কে জানে? আজ উনি অভি আর আমার ঝগড়াটা দেখেছেন। অভি স্পষ্ট বলেছে, আমি বুবাইকে ঠকিয়েছি তাই ও আমাকে ঠকিয়ে কোনো ভুল করেনি।

সকাল বেলায় উঠে আরো একটা সারপ্রাইজ। অভি আয়ন্তিকাও আসলো আমাদের সাথে। দিনটা ভালো কাটলো। মানে আমি চেষ্টা করলাম সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু করতে। অভি বোধহয় আমাকে কোনদিন ভালোবাসে নি। ও বেশ নির্লিপ্ত। অয়ন্তিকাকে খুশি করতে ব্যাস্ত। আয়ন্তিকা হঠাৎ ঠিক করলো বাইক রেসিং করবে। আমি আপত্তি করলাম ঠিকই কিন্তু বুবাই এর ওপর জোর খাটানোর অধিকার বোধহয় আমার হয়নি এখনো। তাই বেশি জোর ফলাতে চাইলাম না। তবে মনে মনে চাইলাম একটা দিনের জন্যে হিরো হোক সবার চোখে।

“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠেছে গতকাল রোববার। উদ্বোধনী ম্যাচে ফিলিপাইনকে পরাজিত করে ২০২৬ সালের এশিয়ান কাপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামীকাল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে নেমে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বাধীন দল মাঠে ‘ফাইট’ দেখাতে প্রস্তুত।
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চীন অত্যন্ত শক্তিশালী দল, তাদের ইতিহাস ও খেলার মান চোখে পড়ার মতো। তবে আমরা প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করব। আশা করি, আমাদের প্রচেষ্টা ভালো ফল দেবে।”
চীনের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আফঈদা আরও যোগ করেন, “এমন একটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হবে। আমরা চেষ্টা করব প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সেরাটা দেখাতে।”
বাংলাদেশের দল ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করছে। প্র্যাকটিস সেশন এবং স্টেডিয়ামের পরিবেশকে তারা বেশ ইতিবাচকভাবে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছে। আফঈদা জানান, “প্র্যাকটিস মাঠগুলো চমৎকার, আমাদের দলকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। পুরো পরিবেশ উপভোগ করছি।”
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, ৬ মার্চ তারা খেলবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের সঙ্গে। পিটার বাটলার কোচের অধীনে দল প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার Sydney শহরে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার সকালেই দল অনুশীলনে নামে Jubilee Oval মাঠে। মেঘলা আকাশ আর হালকা বৃষ্টির মাঝেও প্রায় দেড় ঘণ্টা নিবিড় সেশন পরিচালনা করেন প্রধান কোচ Peter Butler। ফিটনেস, পাসিং ড্রিল ও ট্যাকটিক্যাল সেটআপ—সব মিলিয়ে ছিল প্রতিযোগিতার আবহে প্রস্তুতির ছাপ।
অনুশীলন শেষে দল উঠেছে নির্ধারিত টিম হোটেল Parkroyal Parramatta-এ। এএফসি’র নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর তিন দিন আগে থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অফিসিয়াল হোটেলে অবস্থান করতে হয়। সেখান থেকেই প্রতিদিন অনুশীলন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবে বাংলাদেশ।
১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা। তার আগে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় অনুশীলন চালিয়ে যাবে দল। একই ভেন্যুতে প্রস্তুতি নিচ্ছে Chinese Taipei-এর নারী দলও।
মাঠ ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যা জানান, অনুশীলনের মান ও সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের উপযোগী। আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হলেও খেলোয়াড়রা দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
দলে কয়েকজনের হালকা চোট থাকলেও সেগুলো নিয়ে বড় উদ্বেগ নেই। ফিজিওর তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, আর পুরো দলই প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে।
এশিয়া কাপের মঞ্চে ভালো কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল। প্রস্তুতির শুরুটা ইতিবাচক হওয়ায় প্রত্যাশাও বাড়ছে সমর্থকদের

পোখারায় থামল লাল-সবুজের দাপট, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ শিরোপা ভারতের।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
পোখারায় থামল লাল-সবুজের দাপট, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ শিরোপা ভারতের।

নেপালের পোখারায় সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লিগ পর্বে ভারতকে হারানো বাংলাদেশ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৪–০ গোলে পরাজিত হয়েছে।

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ফাইনালে এসে রক্ষণভাগ ও গোলকিপিংয়ের একাধিক ভুলে বিপদে পড়ে লাল-সবুজের মেয়েরা। প্রথমার্ধ থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ভারত, যা শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে রূপ নেয়।

৪০ মিনিটে রক্ষণের গাফিলতিতে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস সামলাতে ব্যর্থ হলে খুব কাছ থেকে গোল করেন ভারতের অধিনায়ক জুলান নংমাইথেম। বিরতির পর ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলিজাবেদ লাকড়া।

এরপর ৬৮ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে তৃতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। শেষ দিকে, ৮৩ মিনিটে অন্বিতা রঘুরামনের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪–০।
এর আগে লিগ পর্বে ভারতকে ২–০ গোলে হারানো বাংলাদেশ ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ফাইনালের আগ পর্যন্ত তিন ম্যাচে ১৮ গোল করে একটিও গোল হজম না করা দলটি শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ ধাপে এসে থেমে যায়।
উল্লেখ্য, সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন বয়সভিত্তিক আসরের সর্বশেষ ছয়টির মধ্যে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শুরু করা এই আসরে ফাইনালের এমন হার কোচ পিটার বাটলার ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।

তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার, যিনি দুটি হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭ গোল করেন। মুনকি আক্তার যোগ করেন ৪ গোল।
ফাইনালের হতাশা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের জন্য এই দল যে বড় সম্ভাবনার, তা পুরো টুর্নামেন্টেই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল।