পোখারায় থামল লাল-সবুজের দাপট, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ শিরোপা ভারতের।

নেপালের পোখারায় সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লিগ পর্বে ভারতকে হারানো বাংলাদেশ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৪–০ গোলে পরাজিত হয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ফাইনালে এসে রক্ষণভাগ ও গোলকিপিংয়ের একাধিক ভুলে বিপদে পড়ে লাল-সবুজের মেয়েরা। প্রথমার্ধ থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ভারত, যা শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয়ে রূপ নেয়।
৪০ মিনিটে রক্ষণের গাফিলতিতে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস সামলাতে ব্যর্থ হলে খুব কাছ থেকে গোল করেন ভারতের অধিনায়ক জুলান নংমাইথেম। বিরতির পর ৬০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলিজাবেদ লাকড়া।
এরপর ৬৮ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে তৃতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। শেষ দিকে, ৮৩ মিনিটে অন্বিতা রঘুরামনের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪–০।
এর আগে লিগ পর্বে ভারতকে ২–০ গোলে হারানো বাংলাদেশ ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ফাইনালের আগ পর্যন্ত তিন ম্যাচে ১৮ গোল করে একটিও গোল হজম না করা দলটি শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ ধাপে এসে থেমে যায়।
উল্লেখ্য, সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন বয়সভিত্তিক আসরের সর্বশেষ ছয়টির মধ্যে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শুরু করা এই আসরে ফাইনালের এমন হার কোচ পিটার বাটলার ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে থাকল।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার, যিনি দুটি হ্যাটট্রিকসহ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭ গোল করেন। মুনকি আক্তার যোগ করেন ৪ গোল।
ফাইনালের হতাশা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের জন্য এই দল যে বড় সম্ভাবনার, তা পুরো টুর্নামেন্টেই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল।



আপনার মতামত লিখুন
Array