চিলিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্বে দুইয়ে ব্রাজিল

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মারাকানার আলো ঝলমলে পরিবেশে গতকাল যেনো ব্রাজিল ফুটবল ভক্তরা পেল এক রঙিন রাত। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে চিলিকে কোনো সুযোগই দেয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা দারুণ পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলে জয় তুলে নিয়ে কনমেবল অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলে উঠে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। যদিও বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত আগেই হয়ে গিয়েছিল, এই জয়ে আবারও নিজেদের আধিপত্যের জানান দিল সেলেসাওরা।
নেইমার-ভিনিসিউস ছাড়াই আধিপত্য
ব্রাজিলের দলে ছিলেন না দলের দুই বড় তারকা নেইমার ও ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে সেই শূন্যতা পূরণ করেছে তরুণরা। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলা নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা দেখিয়ে দিয়েছে, দায়িত্ব কাঁধে নিলেই তারা ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে। চিলির ডিফেন্স মাঝে মাঝে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি।
এস্তেভাওয়ের দারুণ ফিনিশিং
৩৮ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে। আক্রমণভাগে দুর্দান্ত সমন্বয় থেকে বল পেয়ে তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাও অসাধারণ ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। তার সেই গোলের পর থেকেই ব্রাজিল আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র—চিলির রক্ষণে চাপ বজায় রাখে সেলেসাওরা। ৭২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দারুণ কন্ট্রোলে বল নিয়ে পাকেটা গোল করলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এরপর শেষ মুহূর্তে আরেকটি আক্রমণ থেকে ব্যবধান তিনে নিয়ে যায় ব্রাজিল, যা ম্যাচের নিয়তি একেবারেই স্পষ্ট করে দেয়।
পরিসংখ্যানে একক আধিপত্য
খেলার পরিসংখ্যানে দুই দলের পার্থক্য পরিষ্কার।
বল দখলে ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ৬৪ শতাংশ।
পুরো ম্যাচে ২২টি শট নেয় ব্রাজিল, যার ৫টি ছিল অন-টার্গেট।
বিপরীতে চিলি মাত্র তিনটি শট নিলেও একবারও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
পাসের ক্ষেত্রে ব্রাজিল খেলেছে ৪৭০টি পাস, যার ৮৯ শতাংশ ছিল নিখুঁত। চিলি খেলেছে ২৭৭টি পাস, নির্ভুলতা ছিল ৮০ শতাংশ।
ফাউলের লড়াইয়ে ব্রাজিল ১২ বার ও চিলি ১১ বার নিয়ম ভেঙেছে।
উভয় দল একটি করে হলুদ কার্ড দেখে।
অফসাইডে চিলির সংখ্যা ছিল ৫, যেখানে ব্রাজিল করেছে ২।
সব মিলিয়ে মাঠে ছিল ব্রাজিলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
তরুণদের আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী
এই ম্যাচে শুধু জয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো তরুণদের আত্মবিশ্বাস। নেইমার ও ভিনিসিউসের মতো তারকা ছাড়া দল নেমে প্রমাণ করেছে—ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপলে যে কোনো খেলোয়াড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে এস্তেভাও, পাকেটা ও ডিফেন্স লাইনের ফুটবলাররা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করেছেন।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল। চিলির বিপক্ষে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সেলেসাওরা শুধু শক্ত অবস্থানেই থাকবে না, বরং ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল গঠনে নতুন আশার আলো দেখবে।



আপনার মতামত লিখুন
Array