আলভারেজ–লাউতারোর জোড়া আঘাতে সুইজারল্যান্ডকে বিদায়, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দর্শকদের উপহার দিল আরেকটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শুরুতে এগিয়ে যাওয়া, পরে পিছিয়ে পড়া এবং অতিরিক্ত সময়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে এক নাটকীয় লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে মাঝমাঠে দারুণ সমন্বয় গড়ে তোলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পল। সেই চাপের ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ১০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের পরও আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ দৃঢ়তার সঙ্গে সেগুলো প্রতিহত করে।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে সুইজারল্যান্ড। তারা আক্রমণের গতি বাড়িয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে সমতার গোল করেন। এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৭২ মিনিটে ব্রিল এমবোলো আরেকটি সফল আক্রমণ শেষ করে সুইজারল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে বড় চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এরপর ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির দল একের পর এক আক্রমণ চালায়, তবে সুইস রক্ষণ দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজ দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। সমতা ফেরার পর ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।
কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (১২০+১) আরেকটি দ্রুত আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা লড়াইয়ের মানসিকতা, অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়ার দুর্দান্ত উদাহরণ স্থাপন করল আর্জেন্টিনা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনালে ওঠা দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জন্য এটি ছিল হৃদয়ভাঙা বিদায়। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবুও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও লড়াকু ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছে সুইসরা।
এবার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি বড় পরীক্ষা। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শিরোপার পথে তাই আরও একটি মহারণের অপেক্ষায় লিওনেল মেসির দল।



আপনার মতামত লিখুন
Array