খুঁজুন
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান! ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
২২ বছরের অপেক্ষার অবসান! ভারতকে হারাল বাংলাদেশ

শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোল—হামজাময় লড়াইয়ে ইতিহাস ফের লিখলো লাল–সবুজ

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ হোম ম্যাচ। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে থাকল এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। ২২ বছরের অপেক্ষার ইতি টেনে ভারতকে ১–০ গোলে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। আর সেই একমাত্র সোনালি মুহূর্তটি উপহার দিলেন জাতীয় দলের তরুণ সেনসেশন শেখ মোরসালিন।

২২ বছরের অভিশাপ ভাঙলো

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারানোর পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের বিপক্ষে জয়হীন ছিল বাংলাদেশ। মাঝে অসংখ্য ম্যাচ, অসংখ্য হতাশা। কিন্তু আজকের দিনটা যেন ঠিক অন্য কিছুর ইঙ্গিত নিয়ে এসেছিল।
স্টেডিয়ামে দর্শকদের গর্জন, খেলোয়াড়দের চোখে জেদ—সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আজ ভাগ্যের পাতায় নতুন কিছু লেখা হতে যাচ্ছে।

শুরুতেই মোরসালিনের ম্যাজিক

খেলা শুরু হতেই ভারত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। কিন্তু ১২ মিনিটে ঘটে যায় পুরো ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বাংলাদেশ ডিফেন্স থেকে ঝড়ের গতির একটি পাল্টা আক্রমণ। বাম দিক দিয়ে দৌড়ে ওঠা রাকিব হোসেন তিনজন ভারতীয় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক ক্রস তুললেন।
বক্সে অপেক্ষায় থাকা মোরসালিন ভুল করলেন না। নিখুঁত সংযোগে বল জালে জড়াল, আর গোটা স্টেডিয়াম শোরগোলে ফেটে পড়ল।

সেই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল।

হামজা চৌধুরীর অপ্রতিরোধ্য রক্ষণ

আজকের ম্যাচের আসল নায়ক মোরসালিন হলেও, মাঠে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন হামজা চৌধুরী।

গোললাইন ক্লিয়ার

মিডফিল্ডে অসংখ্য ইন্টারসেপশন

শারীরিক উপস্থিতি দিয়ে ভারতের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া

লং-রেঞ্জ শটে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া মুহূর্ত

ম্যাচ শেষে মনে হচ্ছিল, পুরো মাঠই যেন একা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।

উত্তপ্ত ম্যাচ, তর্কাতর্কি, হলুদ কার্ড

৩৩ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
রেফারি তপু বর্মণ ও ভারতের নিখিলকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
ম্যাচজুড়ে উত্তেজনা ছিল টানটান। প্রতিটি বলের জন্য দুই দলই লড়েছে মরিয়া হয়ে।

তারিক কাজীর ইনজুরি, তপুর দারুণ প্রত্যাবর্তন

ইনজুরি কারণে ২৭ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তারিক কাজী। তার পরিবর্তে নামা শাকিল আহাদ তপু অসাধারণ পারফরম্যান্সে রক্ষণ গোছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মর্যাদার লড়াইয়ে বাংলার জয়নৃত্য

বাছাইপর্বে দুই দলই ইতোমধ্যে ছিটকে গেলেও, এই ম্যাচটি ছিল মর্যাদার লড়াই। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা।

গত মার্চে ভারতের শিলংয়ে ১–১ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে কোনো ভুল করেনি লাল–সবুজরা।
৫ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ সংগ্রহ করল ৫ পয়েন্ট—যা দলের আত্মবিশ্বাসের জন্য বিশাল প্রাপ্তি।

জামাল ভূঁইয়ার আবেগ

এই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও, অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া পুরো সময় মাঠের বাইরে থেকে দলের পাশে ছিলেন।
শেষ বাঁশি বাজতেই তিনি আনন্দে মেতেছেন দলের বাকিদের সঙ্গে। ২২ বছরের সেই হতাশার দিনগুলো যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে গেছে।

 

চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে ইতিবাচক সংকেত বাংলাদেশের, ২-০ গোলে পরাজয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে ইতিবাচক সংকেত বাংলাদেশের, ২-০ গোলে পরাজয়।

এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে র‌্যাংকিংয়ে বড় ব্যবধান থাকলেও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে ম্যাচে পরাজিত হলেও পারফরম্যান্সে ছিল ইতিবাচক বার্তা।

র‌্যাংকিংয়ের হিসাবে চীন অনেক এগিয়ে। তবু শুরু থেকেই বাংলাদেশ রক্ষণভাগ গোছানো রেখে মাঝমাঠে ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও পরিকল্পিত ডিফেন্স ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে সতর্ক রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতায়ও দল আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে চীন। একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বিরতির ঠিক আগে দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। এরপর দ্রুত আরেকটি আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয় গোলটি ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। কয়েকটি পরিবর্তন এনে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ। মাঝমাঠ থেকে বল সরবরাহ বাড়ায় আক্রমণভাগে কিছু সম্ভাবনাও তৈরি হয়। গোলরক্ষক মিলি আক্তারও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি।

ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধেই। পাল্টা আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার জোরালো শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায়। সুযোগটি গোল হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন হলেও ম্যাচে ভিডিও রিভিউ একাধিকবার প্রভাব ফেলেছে। একটি গোল বাতিল এবং সম্ভাব্য পেনাল্টি পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠেছে গতকাল রোববার। উদ্বোধনী ম্যাচে ফিলিপাইনকে পরাজিত করে ২০২৬ সালের এশিয়ান কাপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামীকাল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে নেমে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বাধীন দল মাঠে ‘ফাইট’ দেখাতে প্রস্তুত।
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চীন অত্যন্ত শক্তিশালী দল, তাদের ইতিহাস ও খেলার মান চোখে পড়ার মতো। তবে আমরা প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করব। আশা করি, আমাদের প্রচেষ্টা ভালো ফল দেবে।”
চীনের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আফঈদা আরও যোগ করেন, “এমন একটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হবে। আমরা চেষ্টা করব প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সেরাটা দেখাতে।”
বাংলাদেশের দল ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করছে। প্র্যাকটিস সেশন এবং স্টেডিয়ামের পরিবেশকে তারা বেশ ইতিবাচকভাবে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছে। আফঈদা জানান, “প্র্যাকটিস মাঠগুলো চমৎকার, আমাদের দলকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। পুরো পরিবেশ উপভোগ করছি।”
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, ৬ মার্চ তারা খেলবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের সঙ্গে। পিটার বাটলার কোচের অধীনে দল প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার Sydney শহরে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার সকালেই দল অনুশীলনে নামে Jubilee Oval মাঠে। মেঘলা আকাশ আর হালকা বৃষ্টির মাঝেও প্রায় দেড় ঘণ্টা নিবিড় সেশন পরিচালনা করেন প্রধান কোচ Peter Butler। ফিটনেস, পাসিং ড্রিল ও ট্যাকটিক্যাল সেটআপ—সব মিলিয়ে ছিল প্রতিযোগিতার আবহে প্রস্তুতির ছাপ।
অনুশীলন শেষে দল উঠেছে নির্ধারিত টিম হোটেল Parkroyal Parramatta-এ। এএফসি’র নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর তিন দিন আগে থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অফিসিয়াল হোটেলে অবস্থান করতে হয়। সেখান থেকেই প্রতিদিন অনুশীলন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবে বাংলাদেশ।
১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা। তার আগে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় অনুশীলন চালিয়ে যাবে দল। একই ভেন্যুতে প্রস্তুতি নিচ্ছে Chinese Taipei-এর নারী দলও।
মাঠ ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যা জানান, অনুশীলনের মান ও সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের উপযোগী। আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হলেও খেলোয়াড়রা দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
দলে কয়েকজনের হালকা চোট থাকলেও সেগুলো নিয়ে বড় উদ্বেগ নেই। ফিজিওর তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, আর পুরো দলই প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে।
এশিয়া কাপের মঞ্চে ভালো কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল। প্রস্তুতির শুরুটা ইতিবাচক হওয়ায় প্রত্যাশাও বাড়ছে সমর্থকদের