খুঁজুন
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

নেপালের বিপক্ষে জেতার ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
নেপালের বিপক্ষে জেতার ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ

আবারও পুরোনো চিত্র। শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র করেছে জামাল ভূঁইয়ারা। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল হজমের কারণেই যেন আবারও হতাশা ভর করেছে লাল-সবুজ শিবিরে।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও হামজা চৌধুরীর জোড়া গোলে বাংলাদেশ ২–১ গোলের লিড নিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নেপালের অনন্ত তামাংয়ের গোল সব আনন্দ কেড়ে নেয়।

কোচ ক্যাবরেরার মুখে হতাশা

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা মুখোমুখি হন একের পর এক কঠিন প্রশ্নের। হংকং ম্যাচে যেমন রক্ষণভাগের ভুলে জয় হাতছাড়া হয়েছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
ক্যাবরেরা বলেন,

“আমি শতবার অনুশীলন করিয়েছি। এটা ফুটবলে হতে পারে, কিন্তু একই ভুল বারবার হওয়াটা হতাশাজনক।”

 

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও ম্যাচের আগের দিন সতর্ক করেছিলেন—খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্তে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। ক্যাবরেরার মতে,

“আমি বলব না এটা মানসিক সমস্যা। আমরা ভিডিও বিশ্লেষণ করব, ভুলগুলো সংশোধন করব এবং ভারতের বিপক্ষে যেন এমন না হয়, সেই প্রস্তুতি নেব।”

 

গোল করলেন হামজা, কিন্তু আঘাতের শঙ্কা

বাংলাদেশের হয়ে দু’টি গোলই করেন ইংল্যান্ড প্রবাসী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী—একটি বাইসাইকেল কিকে, আরেকটি পেনাল্টি থেকে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে হালকা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হামজা ও জায়ান আহমেদ। মাঠ ছাড়ার সময় দু’জনের পায়ে আইস ব্যাগ দেখা যায়।
কোচ অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন,

“তাদের আঘাত গুরুতর কিছু নয়। ভারত ম্যাচে তারা খেলবে।”

নেপালের কোচের মন্তব্য

নেপাল কোচ হড়ি খাড়কা বলেন,

“হামজা মাঠে থাকলে আমাদের জন্য কষ্ট হতো। তাকে উঠিয়ে নেওয়ার পর আমরা জায়গা পেয়েছি, সুযোগও কাজে লাগাতে পেরেছি।”

 

তিনি আরও যোগ করেন,

“প্রথম গোলটি অসাধারণ ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পেনাল্টি নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। আমার দৃষ্টিতে সেটা পেনাল্টি ছিল না।”

 

শেষ মুহূর্তের ধাক্কা

৮০ মিনিটে হামজাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই ফাঁকেই নেপাল ম্যাচে ফিরে আসে।
নেপালের অনন্ত তামাং—যিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফর্টিজ ক্লাবের খেলোয়াড়—শেষ মুহূর্তের গোলটি করেন।

বাস্তবতার মুখে ক্যাবরেরা

ক্যাবরেরা ম্যাচ শেষে বলেন,

“আমরা জয়ের লক্ষ্যেই নেমেছিলাম, কিন্তু জিততে পারিনি—এটাই বাস্তবতা। খুব নেতিবাচক হলে চলবে না। এখন আমাদের মনোযোগ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে।”

 

ম্যাচের সারাংশ

ম্যাচ বাংলাদেশ ২–২ নেপাল
গোলদাতা (বাংলাদেশ) হামজা চৌধুরী (২)
গোলদাতা (নেপাল) অনন্ত তামাং ও আরও ১
স্থান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা
পরবর্তী ম্যাচ ভারত বনাম বাংলাদেশ (প্রীতি ম্যাচ)

বাংলাদেশের ফুটবলে আবারও ডিফেন্সের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোচ, খেলোয়াড় ও সমর্থক—সবাই এখন তাকিয়ে ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে; সেখানে কি এই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পারবে বাংলাদেশ?

 

চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে ইতিবাচক সংকেত বাংলাদেশের, ২-০ গোলে পরাজয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে ইতিবাচক সংকেত বাংলাদেশের, ২-০ গোলে পরাজয়।

এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে র‌্যাংকিংয়ে বড় ব্যবধান থাকলেও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে ম্যাচে পরাজিত হলেও পারফরম্যান্সে ছিল ইতিবাচক বার্তা।

র‌্যাংকিংয়ের হিসাবে চীন অনেক এগিয়ে। তবু শুরু থেকেই বাংলাদেশ রক্ষণভাগ গোছানো রেখে মাঝমাঠে ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও পরিকল্পিত ডিফেন্স ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে সতর্ক রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিটনেস ও শারীরিক সক্ষমতায়ও দল আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে চীন। একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বিরতির ঠিক আগে দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। এরপর দ্রুত আরেকটি আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয় গোলটি ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। কয়েকটি পরিবর্তন এনে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন কোচ। মাঝমাঠ থেকে বল সরবরাহ বাড়ায় আক্রমণভাগে কিছু সম্ভাবনাও তৈরি হয়। গোলরক্ষক মিলি আক্তারও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান আর বাড়তে দেননি।

ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধেই। পাল্টা আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমার দূরপাল্লার জোরালো শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায়। সুযোগটি গোল হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য নতুন হলেও ম্যাচে ভিডিও রিভিউ একাধিকবার প্রভাব ফেলেছে। একটি গোল বাতিল এবং সম্ভাব্য পেনাল্টি পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
“বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপ যাত্রা শুরু, প্রথম প্রতিপক্ষ চীন

এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা উঠেছে গতকাল রোববার। উদ্বোধনী ম্যাচে ফিলিপাইনকে পরাজিত করে ২০২৬ সালের এশিয়ান কাপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আগামীকাল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে নেমে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বাধীন দল মাঠে ‘ফাইট’ দেখাতে প্রস্তুত।
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “চীন অত্যন্ত শক্তিশালী দল, তাদের ইতিহাস ও খেলার মান চোখে পড়ার মতো। তবে আমরা প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করব। আশা করি, আমাদের প্রচেষ্টা ভালো ফল দেবে।”
চীনের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আফঈদা আরও যোগ করেন, “এমন একটি শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হবে। আমরা চেষ্টা করব প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের সেরাটা দেখাতে।”
বাংলাদেশের দল ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করছে। প্র্যাকটিস সেশন এবং স্টেডিয়ামের পরিবেশকে তারা বেশ ইতিবাচকভাবে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছে। আফঈদা জানান, “প্র্যাকটিস মাঠগুলো চমৎকার, আমাদের দলকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। পুরো পরিবেশ উপভোগ করছি।”
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, ৬ মার্চ তারা খেলবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের সঙ্গে। পিটার বাটলার কোচের অধীনে দল প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
১ মার্চের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত লাল-সবুজের মেয়েরা

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার Sydney শহরে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুশীলন শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার সকালেই দল অনুশীলনে নামে Jubilee Oval মাঠে। মেঘলা আকাশ আর হালকা বৃষ্টির মাঝেও প্রায় দেড় ঘণ্টা নিবিড় সেশন পরিচালনা করেন প্রধান কোচ Peter Butler। ফিটনেস, পাসিং ড্রিল ও ট্যাকটিক্যাল সেটআপ—সব মিলিয়ে ছিল প্রতিযোগিতার আবহে প্রস্তুতির ছাপ।
অনুশীলন শেষে দল উঠেছে নির্ধারিত টিম হোটেল Parkroyal Parramatta-এ। এএফসি’র নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর তিন দিন আগে থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অফিসিয়াল হোটেলে অবস্থান করতে হয়। সেখান থেকেই প্রতিদিন অনুশীলন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবে বাংলাদেশ।
১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা। তার আগে প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় অনুশীলন চালিয়ে যাবে দল। একই ভেন্যুতে প্রস্তুতি নিচ্ছে Chinese Taipei-এর নারী দলও।
মাঠ ও পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যা জানান, অনুশীলনের মান ও সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের উপযোগী। আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হলেও খেলোয়াড়রা দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
দলে কয়েকজনের হালকা চোট থাকলেও সেগুলো নিয়ে বড় উদ্বেগ নেই। ফিজিওর তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে, আর পুরো দলই প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে।
এশিয়া কাপের মঞ্চে ভালো কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল। প্রস্তুতির শুরুটা ইতিবাচক হওয়ায় প্রত্যাশাও বাড়ছে সমর্থকদের