এপিএফের ঝড়ে বিধ্বস্ত নাসরিন একাডেমি

সাফ উইমেন’স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ম্যাচেই ৪–০ গোলে বড় হার
নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ উইমেন’স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন একাডেমি। স্বাগতিক এপিএফ উইমেন’স ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে ৪–০ গোলের করুণ হারে টুর্নামেন্ট শুরু করল সানজিদা–জয়নবরা।
প্রস্তুতি ঘাটতি, দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘদিন লিগ না হওয়া—সব মিলিয়ে নাসরিন শুরুর বাঁশি থেকেই ছিল চাপে। বিপরীতে হোম কন্ডিশনে দাঁড়িয়েছিল আত্মবিশ্বাসী ও তালমতো খেলতে থাকা এপিএফ।
প্রথমার্ধ: মেঘলার পরিশ্রমেও রক্ষা হয়নি
ম্যাচের শুরুতেই নাসরিনকে ভরসা জোগান গোলরক্ষক মেঘলা রানী রায়।
১০তম মিনিটে রাশমি কুমারির শক্তিশালী শট তিনি কর্নারে পাঠান।
সেই কর্নার থেকেও বিপদ তৈরি হলে গোললাইন থেকে বল ঠেলে রক্ষা করেন জয়নব বিবি রিতা।
কিন্তু চাপ আর বেশিক্ষণ সামলানো গেল না।
৩৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন অপির্তা বিশ্বাস। দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে সুযোগ পেয়ে মিনা দেউবা পাস বাড়ান রাশমির কাছে। নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন রাশমি কুমারি। মেঘলা ঝাঁপালেও বল থামাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধ: গোলের পর গোল, ভেঙে পড়ে নাসরিন
বিরতির পরও ম্যাচের ছবি বদলায়নি।
৫৯তম মিনিটে আবার রাশমির শট ঠেকান মেঘলা।
৬৭তম মিনিটে অনিতা বাসনেত শট নেওয়ার আগেই বেরিয়ে এসে বিপদ সামলান তিনি।
তবে ৭০তম মিনিটে আর পারেননি। মিনার শটে এপিএফ লিড দ্বিগুণ করে। এরপর নাসরিন ডিফেন্স পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
শেষ দিকে রাশমি ও মিনা আরও একটি করে গোল করলে ৪–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
প্রস্তুতি ঘাটতির প্রভাব স্পষ্ট
২০২৩–২৪ মৌসুমের লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েও মাঝের এক মৌসুম লিগ না হওয়ায় নিয়মিত অনুশীলন ছিল না নাসরিন একাডেমির।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকায় মারিয়া মান্ডা ও মনিকা চাকমা—দুই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে। ফলে তরুণ দল নিয়ে মাঠে নেমে স্বাগতিকদের গতি-ছন্দ সামলাতে পারেনি সানজিদারা।
পরের ম্যাচেই বাঁচাতে হবে আশা
রাউন্ড রবিন লিগে পরবর্তী ম্যাচ সোমবার। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের করাচি সিটি ডব্লিউএফসি। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ জরুরি নাসরিন একাডেমির জন্য।



আপনার মতামত লিখুন
Array