ঢাবির হলে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা

ঢাকা, ০৯ আগস্ট, ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সব ধরনের প্রকাশ্য ও গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়। এর আগে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হলের কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান যে, হল পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই নেওয়া হল প্রভোস্টদের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এই ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করে হলে ফিরে যান।
প্রতিবাদের কারণ
ছাত্রদলের ১৮টি হলের কমিটি ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। গত বছর হলগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও ছাত্রদলের এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নেয়নি। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে নারী শিক্ষার্থীদের হলগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা পদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
রাত ১২টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় রোকেয়া হলের ছাত্রীরা গেটের তালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। এরপর জিয়াউর রহমান হল, মুহসীন হল, বিজয় একাত্তর হল, শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যেমন: “হল পলিটিক্সের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন” এবং “এক দুই তিন চার, কমিটি দিছিস হল ছাড়”।
প্রশাসনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ
শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত চাপের মুখে রাত ২টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন যে, ঢাবির হলগুলোতে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো। এ সময় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘোষণার পর রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় এবং হলে ফিরে যায়।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। অন্যদিকে, কিছু মহল মনে করছে এটি রাজনৈতিক অধিকারের উপর এক ধরনের হস্তক্ষেপ।



আপনার মতামত লিখুন
Array