আধিপত্য থাকলেও জিততে পারল না বাংলাদেশ নারী দল।

ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ১২ বছর পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ নারী দল। দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল উঁচু, খেলোয়াড়দের মনোভাব ছিল আগ্রাসী—কিন্তু সবকিছুর মাঝেও একটি রক্ষণভাগের ভুলই ত্রিদেশীয় নারী ফুটবল সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে হতাশা উপহার দিল। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১–০ গোলের পরাজয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল লাল-সবুজরা।
শুরুর আধিপত্য, কিন্তু গোলশূন্য ফিনিশিং
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের দারুণ নিয়ন্ত্রণ। শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, মিম ও মনিকার দ্রুতগতির আক্রমণে মালয়েশিয়ার রক্ষণ ছিল ব্যস্ত। সপ্তম মিনিটে অভিষিক্ত সুলতানার নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রসে মনিকার হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।
এই সুযোগ মিসের পরই কিছুটা ইনজুরিতে পড়েন মনিকা, যা আক্রমণের ধার কমিয়ে দেয়। তবুও মাঝমাঠে দাপট দেখিয়ে সুযোগ তৈরি করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আক্রমণ তৈরি হলেও গোলের দেখা মিলছিল না।
২৯তম মিনিটে ভাগ্য পরিবর্তনকারী ভুল
ম্যাচের ২৯ মিনিটে ঘটে বড় বিপত্তি। মালয়েশিয়ার নুর আইনসাহ বিনতে মুরাদের দিকে লং পাস গেলে গোলরক্ষক রূপনা চাকমা পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন। একই মুহূর্তে ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুও একই লাইনে চলে আসায় রক্ষণে তৈরি হয় বড় ফাঁক। দুইজনের সেই ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনাকুনি শটে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন নুর।
এই একটি ভুলই ম্যাচের গতি বদলে দেয়। প্রথমার্ধ শেষ হয় মালয়েশিয়ার ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের বৃষ্টি, কিন্তু গোলের খরা
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা, মনিকা, সুলতানাদের পাস-চালানো, কর্নার কিক, দূরপাল্লার শট—সবই ছিল গোলের আশায় পরিপূর্ণ। কিন্তু প্রতিবারই মালয়েশিয়ার রক্ষণ দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
ফিনিশিং ঘাটতি, শেষ মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত ও ভাগ্যের প্রতিকূলতাও গোলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ মুহূর্তেও হতাশা
শেষ সময়ে কোচ বদলি এনে আক্রমণ বাড়ালেও মালয়েশিয়া সময় নষ্টের কৌশল আর শক্ত রক্ষণভাগ দিয়ে বাংলাদেশের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যোগ করা সময়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেল না লাল-সবুজরা।
এখনও আছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটা হতাশাজনক হলেও টুর্নামেন্ট এখনও শেষ হয়নি। সামনে রয়েছে আরও এক ম্যাচ। সেখানে ভুল ঠিক করে আরও পরিণত ফুটবল খেলতে পারলে ফল পাল্টাতে পারে—এমনটাই আশা বাংলাদেশের সমর্থক ও কোচিং স্টাফদের।



আপনার মতামত লিখুন
Array