ইয়েমেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে এশিয়ান কাপের স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশের

ভিয়েতনামের ভিয়েত ট্রাই স্টেডিয়ামে ভাগ্যের নির্মম আঘাতে হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যোগ করা সময়ের নাটকীয় গোলে ইয়েমেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। এই হারের ফলে মূল পর্বে খেলার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল লাল-সবুজের তরুণদের।
শনিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হয়। প্রথমার্ধে তুলনামূলকভাবে সাহসী ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ইয়েমেনের ধারাবাহিক আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচজুড়ে রক্ষণ সামলে রাখলেও শেষ বাঁশির আগমুহূর্তে ভেঙে পড়ে লাল-সবুজ দুর্গ। ৯৪তম মিনিটে যোগ করা সময়ে ইয়েমেনের একমাত্র গোলটি বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত করে দেয়।
প্রথম ম্যাচেই ভিয়েতনামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে ইয়েমেনের বিপক্ষে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। কিন্তু শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে টেবিলের তলানিতে নেমে যেতে হলো টিটুর দলকে।
শক্তির পার্থক্যও ছিল স্পষ্ট
ফিফা র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। লাল-সবুজরা যেখানে ১৮৪তম, সেখানে ইয়েমেন ১৫৬তম স্থানে। মুখোমুখি লড়াইয়েও সুবিধা ইয়েমেনের পক্ষেই। বয়সভিত্তিক আসরে এই প্রথম মুখোমুখি হলেও সিনিয়র ও জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ একাধিকবার হেরেছে ইয়েমেনের কাছে।
২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ দল ৩-০ গোলে হারে ইয়েমেনের বিপক্ষে।
২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ দল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ৪-০ গোলে হারে ইয়েমেনের কাছে।
তবে ১৯৯৪ সালে সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ ইয়েমেনকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল, যা এখনো দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে লাল-সবুজের একমাত্র জয়।
বাংলাদেশ ম্যাচে বল দখল ও আক্রমণে পিছিয়ে থাকলেও মূল সমস্যা ছিল ফিনিশিং। সামনে গিয়ে সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ইয়েমেনের চাপ সামলাতে গিয়েই রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে।
দুই ম্যাচে টানা হারার ফলে কার্যত ছিটকে গেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। টুর্নামেন্টে অবশিষ্ট ম্যাচ থাকলেও আর মূল পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন বাকি ম্যাচগুলো শুধুই মর্যাদা রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের এই হারের মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো—এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টিকে থাকতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বয়সভিত্তিক কাঠামো ও শক্তিশালী প্রস্তুতি ছাড়া বিকল্প নেই।



আপনার মতামত লিখুন
Array