জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ ছিল এক অন্যরকম সন্ধ্যা। ত্রিদেশীয় আন্তর্জাতিক সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয়ান দলের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। র্যাংকিংয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও লাল–সবুজ মেয়েরা পুরো ম্যাচজুড়েই দেখিয়েছে দারুণ লড়াকু মনোভাব। তবুও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারী আজারবাইজান।
গোল খেয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আগ্রাসী ছিল আজারবাইজান। ২০ মিনিটে অধিনায়ক জাফরজেদার চমৎকার ফিনিশে এগিয়ে যায় তারা। গোলের পর তিনি সতীর্থদের সঙ্গে আবেগঘন উদযাপনে জড়িয়ে পড়েন।
কিন্তু গোল হজম করে দমে যায়নি বাংলাদেশ। ৩৪ মিনিটে স্বপ্না রাণীর কর্নার থেকে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় বল পেয়ে অসাধারণ সাইড ভলিতে গোল করেন মারিয়া মান্ডা। সেই গোল স্টেডিয়ামে এনে দেয় নতুন প্রাণ।
দারুণ লড়াই, তবে ভাগ্য সহায় নয়
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। রুপ্না, মনিকা ও স্বপ্নাদের কয়েকটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আজারবাইজান রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে সর্বনাশ।
৮৪ মিনিটে ডান দিক থেকে আসা এক ক্রসে ডিফেন্স ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেনি বাংলাদেশ। বক্সে ফাঁকা জায়গা পেয়ে মানিয়া ইশরা সহজেই বল নেটের ভেতর পাঠান। হাই-লাইন ডিফেন্সের কারণে কয়েকবার বিপদে পড়লেও অফসাইড ট্র্যাপ কাজে এসেছিল। কিন্তু এই একটি ভুলই ম্যাচের ফল বদলে দেয়।
গ্যালারিতে উৎসব, বাড়ছে মেয়েদের ফুটবলের জনপ্রিয়তা
আজকের ম্যাচে পূর্ব গ্যালারি খোলা থাকলেও প্রায় সাত হাজার দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যযন্ত্র, উল্লাস আর তুমুল সমর্থনে স্টেডিয়াম ছিল উৎসবমুখর।
ইতিবাচক দিক
টানা দুই ম্যাচে হার—মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ০-১, আজ আজারবাইজানের কাছে ১-২। ফলাফল ভালো না হলেও ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলতে পেরে দল পেয়েছে মূল্যবান অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি দলের লড়াকু মনোভাব, দ্রুত কম্বিনেশন এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাস অবশ্যই বেড়েছে।