বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল সাম্প্রতিক সময়ে যে অগ্রযাত্রা দেখিয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আসছে নভেম্বর মাসে ইউরোপের দেশ আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে আফঈদা-ঋতুপর্ণারা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ইতোমধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফিফা উইন্ডোতে ঢাকার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল জানিয়েছেন, তারা চেষ্টা করছেন আজারবাইজানকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সেই টুর্নামেন্টের জন্য আরও একটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত আরেকটি দল যুক্ত না হয়, তবে আজারবাইজানের বিপক্ষেই দুটি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের মেয়েরা।
দুর্দান্ত ফর্মে বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্যের ঝুলি ভরছে একের পর এক অর্জনে। এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। একইভাবে বয়সভিত্তিক পর্যায়েও এসেছে সুসংবাদ—অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়েও প্রতিফলিত হয়েছে। কিছুদিন আগেই ফিফার তালিকায় বাংলাদেশ নারী দল এক লাফে ২৪ ধাপ এগিয়ে এসে এখন ১০৪তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে আসন্ন প্রতিপক্ষ আজারবাইজান বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে ৭৪তম স্থানে। সংখ্যার হিসেবে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের মেয়েরা অতীতে প্রমাণ করেছে, মাঠের লড়াইয়ে শুধু র্যাঙ্কিং নয়, আত্মবিশ্বাস আর টিমওয়ার্কই বড় শক্তি।
কঠিন চ্যালেঞ্জ, বড় সুযোগ
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে আধিপত্য দেখালেও ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। আজারবাইজানের মতো প্রতিপক্ষ নিঃসন্দেহে শক্তিশালী, তাদের খেলার ধরণও ভিন্ন। তবে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী—এই ম্যাচগুলো শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ।
এশিয়ান কাপে মিয়ানমারের মতো র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে হারিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ চমক দেখিয়েছে, তাতে আশা করা যায় আজারবাইজানের বিপক্ষেও লাল-সবুজ জয়ের জন্য লড়বে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সামনে নতুন অধ্যায়
এই ম্যাচগুলো শুধু প্রীতি ম্যাচ নয়—বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। ইউরোপের দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা যেমন খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও দক্ষতা বাড়াবে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকেও আরও শক্তিশালী করবে।
ফলে নভেম্বরের ম্যাচগুলো শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।